
কৃষিতে কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে হোমিওপ্যাথির সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণার আহ্বান
পর্যটন নগরী কক্সবাজারে অনুষ্ঠিত হয়েছে দু’দিনব্যাপী ১০ম আন্তর্জাতিক হোমিওপ্যাথিক সিম্পোজিয়াম–২০২৬। ‘সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড স্টাডিজ ইন হোমিওপ্যাথি’ (CASH) বাংলাদেশ-এর আয়োজনে পরিবেশবান্ধব বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে সিম্পোজিয়ামের শুভ উদ্বোধন করা হয়।
সিম্পোজিয়ামে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের পাশাপাশি ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও লন্ডন থেকে আগত চিকিৎসক, গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা, গবেষণা, আধুনিক প্রয়োগ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন অংশগ্রহণকারীরা।
সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল কক্সবাজারের গ্রীন রিভল্যুশন সোসাইটি বাংলাদেশ-এর সভাপতি ডাঃ এম এ মনজুরের ব্যতিক্রমধর্মী ও শিক্ষামূলক প্রেজেন্টেশন—
“বৃক্ষের ক্ষত থেকে সবুজ বিপ্লব: কৃষিতে হোমিওপ্যাথির সম্ভাবনা”।
গবেষণাপত্র উপস্থাপনের সময় ডাঃ এম এ মনজুর উদ্ভিদের পরিচর্যা, প্রুনিং ও গ্রাফটিং-পরবর্তী ক্ষত ব্যবস্থাপনা এবং কৃষিতে হোমিওপ্যাথিক প্রস্তুতির সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, “পানি যেমন জীবনের জন্য অপরিহার্য, তেমনি হোমিওপ্যাথির সম্ভাবনাকেও মানুষ, প্রাণী ও উদ্ভিদ—বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করে দেখা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে কৃষিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমানোর উপায় খুঁজে বের করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিক প্রস্তুতি কিংবা অন্যান্য পরিবেশবান্ধব পদ্ধতির কার্যকারিতা বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে।
উদ্ভিদ ও প্রাণিসম্পদে হোমিওপ্যাথির সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে কৃষিবিদ, উদ্ভিদবিজ্ঞানী, প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞ ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকদের সমন্বয়ে বৃহৎ পরিসরে যৌথ গবেষণা উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ডাঃ মনজুর।
তিনি বলেন, “সবুজ বিপ্লব শুধু গাছ লাগানোর আন্দোলন নয়; নিরাপদ খাদ্য, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থার বিকাশও সবুজ বিপ্লবের অংশ।”
একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্যে কক্সবাজারে একটি আন্তর্জাতিক মানের হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি এবং এ বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
সিম্পোজিয়ামে অংশগ্রহণকারী দেশ-বিদেশের চিকিৎসক ও গবেষকরা চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাশাপাশি কৃষি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে আন্তঃবিষয়ক গবেষণা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দেশী – বিদেশী একডজনের বেশী চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী তাদের নানা অভিজ্ঞতা এবং পরিবেশবান্ধব হোমিওপ্যাথি ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।